...

Nuhil Mehdy

Polyglot Programmer, White Hat Hacker, AI Enthusiast by Choice!

SpaceX এর মহাশক্তিশালী Falcon Heavy এবং স্টারম্যানের মঙ্গল ভ্রমণ


“আজকে হয় সবচেয়ে শক্তিশালী রকেটের সফল উৎক্ষেপণ দেখবেন নাহয় সবচেয়ে বড় ফায়ার ওয়ার্কস দেখবেন”

এটি ছিল ফ্যালকন হেভির প্রথম ফ্লাইটের দিনে স্পেস এক্স এর প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্কের উক্তি। ইতোমধ্যে অনেকেই ফ্যালকন নাইন এর কথা শুনে থাকবেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে এই রি-ইউজ্যাবল রকেটের অনেক গুলো সফল উৎক্ষেপণের ব্যাপারেও জেনে থাকবেন। এই রকেটেরই পরবর্তী আপডেটেড ভার্শন হচ্ছে ফ্যালকন হেভি। কেমন ধরনের আপডেট সেটা এখনি বলছি - ফ্যালকন নাইনের স্টেজ ওয়ানের শক্তি তথা ইঞ্জিন ছিল ৯টি মারলিন ইঞ্জিন। আর ফ্যালকন হেভিতে আছে ২৭টি মারলিন ইঞ্জিন। ক্যামেন? কারন, ফ্যালকন হেভি মূলত ৩টি ফ্যালকন নাইন স্টেজ-১ এর সমন্বয়। তাই প্রত্যেকটা ফ্যালকন নাইনের ৯টি করে মারলিন ইঞ্জিন আর তিনটি ফ্যালকন নাইন মিলে একটি ফ্যালকন হেভি।

Falcon Heavy
ফটো ক্রেডিটঃ SpaceX

তো এই রকেট কতটা শক্তি উৎপন্ন করতে পারবে সেটার একটা তুলনা করা যায় এভাবে - ১৮টি বোয়িং ৭৪৭ তাদের ফুল পাওয়ার দিয়ে যে পরিমাণ থ্রাস্ট উৎপন্ন করতে পারবে ঠিক সেই পরিমাণ থ্রাস্ট উৎপন্ন করবে এই ফ্যালকন হেভি (উপরে ওঠার সময়)। আর এই পরিমাণ শক্তি এটাকে করেছে পৃথিবীর সব থেকে শক্তিশালী অপারেশনাল রকেট যা এর নিকট প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে দিগুণ শক্তিশালী। সব চেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে এর ৩টি স্টেজ-১ -ই ফিরে আনা হবে যেভাবে আলাদা আলাদা ফ্যালকন নাইনের স্টেজ-১ গুলোকে ড্রোন শিপে ফেরত আনা হয়। চিন্তা করতে পারছেন রি-ইউজ্যাবিলিটির কি ভয়ঙ্কর এক প্র্যাক্টিক্যাল উদাহরণ?

ফান ফ্যাক্টঃ এই টেস্ট ফ্লাইটের পে-লোড হচ্ছে এলন মাস্কের ব্যক্তিগত কালেকশনের একটি লাল রঙের টেসলা রোডস্টার গাড়ি যেটাকে একটি কক্ষপথে ডেপলয় করাই হবে স্টেজ-২ এর মিশন।

আপডেটঃ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ দুপুরে সফল ভাবেই উৎক্ষেপণ করা হয়েছে ফ্যালকন হেভি রকেটকে। আর পূর্বের প্ল্যান মোতাবেক এর ৩টি স্টেজ ওয়ানকেই ফেরত আনার চেষ্টা করা হয়েছে। ডান এবং বাম দিকের স্টেজ ওয়ান গুলো সঠিক ভাবে এবং সুন্দর ভাবে ফিরেছে গ্রাউন্ডে। কিন্তু কয়েক মিটারের জন্য কোর বা সেন্টার স্টেজটি তার ল্যান্ডিং পয়েন্ট ড্রোন শিপটিকে মিস করে পানিতে পরে যায়।

কিন্তু স্টারম্যান ঠিকি ভালমতোই সূর্যকে ঘিরে ঘুরতে ঘুরতে মঙ্গলকে কাছে পাওয়ার মিশনে নেমে গেছে। পৃথিবী, মঙ্গল এবং অন্যান্য গ্রহের মতই স্টারম্যানও তার টেসলা গাড়িতে করে সূর্যকে প্রদক্ষিণে ব্যস্ত থাকবে বছরের পর বছর। ঘোরার পথে সে মঙ্গলকে অনেক কাছে পাবে তারই পাশের আরেকটি কক্ষপথে। স্টারম্যান এখন কোথায় আছে এবং মঙ্গলের সাপেক্ষে তার অবস্থান কখন কেমন হতে পারে তার একটা গাণিতিক সিমুলেশন দেখতে পারেন এখানেঃ where is roadster