...

Nuhil Mehdy

Polyglot Programmer, White Hat Hacker, AI Enthusiast by Choice!

স্টিফেন হকিং এর ব্রেকথ্রু স্টারশট এবং আলোর গতিতে ছুটে চলা ক্ষুদ্র স্পেসক্রাফট


মহাশূন্যের গভীরে আর আলোক বর্ষ দুরের রহস্যময় জগতের খোঁজ যেন থেমে নেই এক মুহূর্তের জন্যও। বিজ্ঞান আর আবিষ্কারের নেশায় যাদের পেয়ে বসে তাদের কাছে রহস্য মানেই যেন জ্ঞানের খোরাক। আর তাই তো, দূরত্বের বাধা আর গতির বাধা তাদের কাছে হয়ে যায় নস্যি। সেরকমই একটি প্রকল্পের একটু সারসংক্ষেপ তুলে ধরছি এই পোস্টে।

প্রজেক্ট ব্রেকথ্রু স্টারশট। ২০১৬ সালে বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এবং রুশ উদ্যোক্তা ইউরি মিলনার মিলে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবারগের সাথে শুরু করেন এই প্রজেক্ট। এই প্রকল্পের বিষয়ে স্টিফেন হকিং বলেন, ‘মহাজগতের আরও রহস্য উন্মোচন করতে আমরা আমাদের পরবর্তী মহাপদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি। কারণ আমরা মানুষ এবং উড়ে বেড়ানো আমাদের স্বভাব।’ মহাকাশে আমাদের সবচেয়ে কাছের সৌরজগত ‘আলফা সেন্টাউরি’ তে অনুসন্ধান চালানোই এই প্রকল্পের মুল উদ্দেশ্য। সেখানে মানুষের বসবাস উপযোগী গ্রহের অস্তিত্ব আছে কিনা এটা জানা এবং থাকলে সেখানে পৌছানোর উপায় বের করাও প্রধান কিছু অ্যাজেন্ডা। আর এই মহাযজ্ঞের প্রাথমিক বাজেট ছাড়িয়েছে হাজার কোটি ডলার।

প্রথমত এই ‘আলফা সেন্টাউরি’’র অবস্থান আমাদের মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যে হয়ে থাকলেও আমাদের থেকে প্রায় ৫ আলোক বর্ষ দুরে অবস্থিত। আলোর গতিতে ছুটলেও সেখানে পৌছাতে ৪ বছর ৭ মাস লেগে যাবে বলে বিজ্ঞানীদের ধারনা। ওই নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে একটি ভিনগ্রহ। যার নাম- প্রক্সিমা সেন্টাউরি-বি যেটা অনেকটাই পৃথিবীর মতই। যাহোক, আলর গতির মোটামুটি কাছের গতিতেও যদি কোন স্পেসক্রাফটকে গতি দেয়ার চেষ্টা করা হয় তবে সেটা সম্ভব নয় যদি সেই স্পেসক্রাফটের আয়তন আমাদের চিরচেনা স্পেসশিপগুলোর মত হয়। এর উপায় হিসেবে বিজ্ঞানীরা ডিজাইন করেছে ১০ কোটি ডলার বাজেটের ন্যানো স্পেসক্রাফট।

এই ন্যানো স্পেসক্রাফট গুলোর আকৃতি মোটামুটি দেড় বর্গ ইঞ্চি। ওজন মাত্র ৪ গ্রাম। এই ক্ষুদ্রাকৃতির স্পেসক্রাফট গুলোতে থাকবে ক্যামেরা, অবস্থান সেন্সর, পাওয়ার সোর্স ইত্যাদি জিনিষ পত্র। অবাক লাগলেও বলে নেয়া ভালো যে, এরকম ন্যানো স্পেস্ক্রাফট এর কিছু পরীক্ষামূলক রান ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে লো আর্থ অরবিটে। সেগুলোর কর্মক্ষমতা এবং দক্ষতা যাচাই বাছাই এর জন্য ৬টি ন্যানো স্পেসক্রাফট ঘুরছে এই পৃথিবীরই অরবিটে। ‘ব্রেকথ্রু স্টারশট’ প্রকল্প থেকে নিউইয়র্ক আর ক্যালিফোর্নিয়ার দু’টি গ্রাউন্ড স্টেশনে সিগন্যালও পাঠাতে শুরু করে দিয়েছে ওই পুঁচকে মহাকাশযানগুলো। এর আগে এত ছোট কোনো যান আর কখনও মহাকাশে পাঠানো হয়নি। ক্ষুদ্রতম এই মহাকাশযানের নাম ‘স্প্রাইট’। যা অনেকটা মোবাইল ফোনের চিপের মতো। কিন্তু মুল মিশনের জন্য যাত্রা করবে একটি দুটি নয় বরং ১০০০টি এরকম স্পেসক্রাফট। মুল মিশনে এই ক্ষুদ্র যান গুলোর নাম স্টারচিপ। আর এদেরকে বলা হচ্ছে প্রথম ইন্টারস্টেলার স্পেসক্রাফট।

Breakthrough Starshot
ফটো ক্রেডিটঃ facebook

এখন কথা হচ্ছে বাহনের ব্যবস্থা নাহয় হল। কিন্তু এগুলোকে অতি উচ্চ গতি প্রদান করার উপায় কি? এগুলোর তো নিজেদেরই ইঞ্জিন নাই। থাকার উপায়ও নাই। অন্যদিকে ‘ব্রেকথ্রু স্টারশট’ প্রকল্পের উপদেষ্টা কমিটির প্রধান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্রাহাম লোয়েব বলেছেন, এখনকার সর্বাধুনিক মহাকাশযানগুলো নিয়ে যদি আমরা আজ রওনা হই সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রমণ্ডল আলফা সেন্টাউরির দিকে, তাহলে সেখানে গিয়ে পৌঁছতে আমাদের কম করে ৩০ হাজার বছর সময় লেগে যাবে। যা সম্ভব হতে পারে আমাদের ৫০০ প্রজন্ম পর। কিন্তু আমাদের হাতে তো আর খুব বেশি সময় নেই। আমাদের জীবদ্দশাতেই সব কিছু করতে হবে।

এই সমস্যা মোকাবিলা করা হবে পৃথিবীর গ্রাউন্ড থেকেই। প্রথমেই স্বাভাবিক স্যাটেলাইট ডেপ্লয়মেন্টের মত করে একটি রকেটের মাধ্যমে পিচ্চি স্টারচিপ গুলোকে আকাশে ছুড়ে দেওয়া হবে। এরপর এগুলোকে ডেপ্লয় করা হবে হাই আর্থ অরবিটে। তারপর পৃথিবী থেকে শক্তিশালী আলোকরশ্মি পাঠিয়ে একটি একটি করে এগুলোর বেগ ঘণ্টায় ১০ কোটি মাইলে রূপান্তর করা হবে। সবগুলোকে গতি দিতে মোট ১০ মিনিট সময় লাগবে। এই গতি আলোর গতির ২০% এবং এখনকার যেকোনো মহাকাশ যানের চেয়ে বেশি। তাহলে একটু সহজ অংক করলেই বোঝা যাচ্ছে যে, এই পোকা গুলোর আলফা সেন্টাউরিতে পৌছাতে ২০ বছরের মত সময় লাগবে।

বিজ্ঞানী আইনস্টাইন আলোক রশ্মির উপরে বসে ভ্রমণ করতে চেয়েছিলেন এবং এই চিন্তার খোরাক থেকেই তিনি আপেক্ষিকতার ধারনার দিকে আরও মনোযোগ দিয়েছিলেন।

এতো মহাযজ্ঞ করে স্পেস্ক্রাফটগুলো প্রক্সিমা সেন্টাউরি-বি থেকে ১ অ্যাস্ট্রনমিক্যাল উনিট অর্থাৎ ১৫০ মিলিয়ন কিলোমিটার দুরে অবস্থান করে সেই গ্রহের হাই কোয়ালিটি ফটো তুলতে সক্ষম হবে এবং যে ফটো দেখে সেটার সারফেসের ম্যাটেরিয়াল নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব হবে।


Share With World
comments powered by Disqus