ম্যাক এর জন্য ডেভেলপার বা প্রো-ইউজারদের প্রয়োজনীয় ৩০টি অ্যাপ সাজেশন

Standard
  1. Xcode যারা iOS, watchOS বা macOS এর জন্য অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ করতে চান তাদের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় একটি IDE যার সাথে বিল্ট ইন আছে ইমুলেটর গুলোও। ম্যাক ইউজাররা ফ্রি তেই ডাউনলোড করতে পারবেন।
  2. chrome বর্তমান ওয়েব দুনিয়ায়, সব ব্রাউজারের ব্যবহার জরিপ অনুযায়ী শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি ব্যবহৃত হয় গুগলের তৈরি এই ব্রাউজারটি। বিশাল এক্সটেনশন এবং অ্যাপ মার্কেটপ্লেস এই ব্রাউজারকে করেছে আরও সমৃদ্ধ। এই ব্রাউজারে যেমন ক্লায়েন্ট সাইড ডিবাগিং, ইন্সপেকশন টুল বিল্ট আছে তেমনি এর জন্য এক্সটেনশন বা প্লাগিন তৈরি করাও বেশ সহজ। সবার জন্য ফ্রি।
  3. PhpStorm জেট ব্রেইন্স এর তৈরি সবচেয়ে পপুলার একটি IDE যার মাধ্যমে PHP -তে ওয়েব অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট হতে পারে খুবি প্রোডাক্টিভ। স্টুডেন্টদের জন্য ফ্রি। এছাড়াও স্টার্ট আপ, ট্রেনিং সেন্টার বা ওপেন সোর্স প্রোডাক্ট ডেভেলপারদের জন্যও ফ্রি/ছাড়।
  4. PyCharm জেট ব্রেইন্স এর তৈরি আরেকটি বহুল পরিচিত পাইথন IDE যার একটি কমিউনিটি এডিশন আছে যেটি সবসময় বিনামূল্যে পাওয়া যায়। পাইথন অ্যাপ ডেভেলপার বা পাইথন স্ট্যাকে কাজ করেন এমন ইউজারদের জন্য খুবি প্রোডাক্টিভ একটি টুল। যারা Anaconda এর মত রেডি মেড প্ল্যাটফর্ম এর জন্য বাধ্য না, সেরকম ডাটা সায়েন্স ইঞ্জিনিয়াররাও এটায় কাজ করতে পারেন স্বাচ্ছন্দ্যে. এর প্রফেশনাল এডিশনটি স্টুডেন্টদের জন্য ফ্রি। এছাড়াও স্টার্ট আপ, ট্রেনিং সেন্টার বা ওপেন সোর্স প্রোডাক্ট ডেভেলপারদের জন্যও ফ্রি/ছাড়।
  5. Webstorm যাদের জাভাস্ক্রিপ্ট স্ট্যাক খুব পছন্দ এবং ক্লায়েন্ট সাইড অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে ফোকাসড তাঁরা ব্যবহার করতে পারেন এই IDE টি. এমনকি MEAN স্ট্যাকে ডেভেলপমেন্ট করতে চাইলেও এই IDE হতে পারে প্রথম পছন্দ। স্টুডেন্টদের জন্য ফ্রি।
  6. IntelliJ IDEA জাভা ডেভেলপারদের জন্য অত্যন্ত চমৎকার ফিচার সমৃদ্ধ একটি IDE. স্কালা, গ্রুভি, কটলিন ল্যাঙ্গুয়েজের সাপোর্ট থেকে শুরু করে গিট সাপোর্ট এবং স্প্রিং এর মত ফ্রেমওয়ার্ক সাপোর্ট সবই আছে এতে। Android অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট থেকে শুরু করে ওয়েব অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, সবই সম্ভব এই প্রোডাক্টিভ টুলটি ব্যবহারের মাধ্যমে। স্টুডেন্টদের জন্য ফ্রি।
  7. Android Studio অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এর জন্য একমাত্র অফিসিয়াল IDE. কোড এডিটিং, ডিবাগিং থেকে শুরু করে পারফরমেন্স টেস্টিং, ডিপ্লয়েমেন্ট, ইনস্ট্যান্ট বিল্ড ও অনেক অনেক ফিচার সমৃদ্ধ IDE টি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপারদের প্রথম পছন্দ। ফ্রি।
  8. Visual Studio Code মাইক্রোসফট এর তৈরি ফ্রি, ওপেন সোর্স এবং সুন্দর ইন্টারফেইস সমৃদ্ধ এই মাল্টি প্ল্যাটফর্ম কোড এডিটরটি লাইট ওয়েট এবং সাথে গিট ও ডিবাগিং ফিচার বিল্ট ইন। আরও আছে কমিউনিটির ডেভেলপ করা মারাত্মক সব এক্সটেনশন। ফ্রি.
  9. Docker এটি বর্তমানের সব চেয়ে পপুলার সফটওয়্যার কন্টেইনার প্ল্যাটফর্ম। মাল্টি প্ল্যাটফর্মে ডেভেলপমেন্ট, ফুল ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্ট পোর্ট, অতঃপর দ্রুত ডেপ্লয়মেন্ট এবং সহজ স্কেল্যাব্লিটির জন্য সবাই এখন ব্যবহার করছে এই টুলটিকে। কমিউনিটি এডিশন ফ্রি।
  10. VirtualBox ম্যাকের মধ্যেই Windows বা Ubuntu বা অন্য কোন OS ইন্সটল দিতে চাইলে ভার্চুয়াল বক্স হতে পারে সলিড একটি সমাধান। এছাড়া ম্যাকে Vagrant ব্যবহার করতে হলেও এটি আগে ইন্সটল থাকতে হবে। ফ্রি তেই পাওয়া যাবে এই সফটওয়্যারটি।
  11. Vagrant ভার্চুয়াল বক্স ইউজ করে অন্য OS ইন্সটল দেয়ার পরেও কিছু সীমাবদ্ধতা থেকে যায় যেগুলো দূর করতে পারে এই কমান্ড লাইন অ্যাপটি। এটি ব্যবহার করে খুব দ্রুত যেকোনো হেড লেস OS ইন্সটল দেয়া এবং সাথে সাথে IP, Memory, Sync Folder, SSH ইত্যাদি কনফিগার করা যায় সহজেই। ফ্রি.
  12. Sequel Pro গ্র্যাফিক্যালি MySQL ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্টের জন্য ম্যাকের উপযোগী খুব সুন্দর একটি অ্যাপ। ম্যাকের জন্য ফ্রিতেই পাওয়া যায়।
  13. Robomongo ক্রস প্ল্যাটফর্ম এবং ন্যাটিভ একটি গ্রাফিক্যাল টুল যা দিয়ে সহজেই MongoDB ম্যানেজ করতে পারেন।
  14. iTerm2 ম্যাকের বিল্ট ইন টার্মিনাল অ্যাপ এর চেয়ে অনেক বেশি কনফিগারেবল এবং অনেক অনেক ফিচার সমৃদ্ধ একটি টার্মিনাল ক্লায়েন্ট। ওপেন সোর্স এবং সম্পূর্ণ ফ্রি।
  15. Postman বর্তমানে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং API ডেভেলপেমণ্ট প্রায় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর পোষ্টম্যান হচ্ছে সেখানে অবশ্য প্রয়োজনীয় একটি অ্যাপ যার মাধ্যমে আপনার ডেভেলপ করা API এন্ডপয়েন্ট গুলোকে টেস্ট করতে পারবেন সহজেই।
  16. Homebrew এক কথায় একে বলা হয় The missing package manager for macOS. অর্থাৎ, যারা উবুন্টু বা এরকম ইউনিক্স সিস্টেমের বিল্ট ইন প্যাকেজ ম্যানেজার গুলোকে পছন্দ করেন এবং ম্যাকে এরকম একটি টুলকে মিস করেন তাদের জন্য লাইফ সেভার একটি টুল এটি। মজার বিষয় হচ্ছে, এটি কোন টুল ইন্সটল করার সময় এর নিজের একটি আলাদা লোকেশন ইন্সটল করে এবং সেটির একটি সিম্বোলিক লিঙ্ক ম্যাকের /usr/local ডিরেক্টরিতে তৈরি করে. আর তাই আপনার সিস্টেম ক্লিন থাকে।
  17. Github Desktop যদি আপনি একজন ওপেন সোর্স কন্ট্রিবিউটর হয়ে থাকেন এবং বিভিন্ন github রিপজিটরিতে খুব দ্রুত একটি গ্রাফিক্যাল টুল ইউজ করে কোলাবরেট করতে চান তাহলে এটি আপনার জন্য। এটি ফ্রি। Tower হচ্ছে এরকমই আরেকটি অ্যাপ যা আপনার সব গিট রিপজিটরির জন্য কিন্তু এটি পেইড অ্যাপ।
  18. FileZilla নানা কারণেই আপনার একটি FTP ক্লায়েন্ট দরকার হতে পারে যে ক্ষেত্রে এই ফ্রি, ওপেন সোর্স এবং ক্রস প্ল্যাটফর্ম অ্যাপটি হতে পারে প্রথম পছন্দের। FTP, SFPT সাপোর্ট রয়েছে এতে।
  19. Caffeine ছোট একটি টুলবার অ্যাপ যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আপনার ম্যাককে স্লিপ মুডে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেন. ফ্রি।
  20. Spectacle ম্যাক ইউজারদের কাছে অনেক সময় বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়ায় বিভিন্ন অ্যাপ উইন্ডোর সাইজকে ঠিক ঠাক করা। এই টুলবার অ্যাপ এবং এর কিবোর্ড শর্ট কাট এর মাধ্যমে খুব সহজেই কোন রানিং অ্যাপকে ফুল সাইজ করা, অর্ধেক ডানে বা অর্ধেক বামে করা ইত্যাদি নানা রকম প্লেসমেন্ট করা যায়। ফ্রি।
  21. Skype নতুন করে বলার কিছু নাই স্কাইপি নিয়ে। মার্কেটে অনেক সময় অনেক রকম কমিউনিকেশন টুল আসলেও এর অবস্থান অনড়। এখনও অনেক ইউজাররা মিটিং, স্ক্রিন শেয়ারিং, গ্রুপ কনভারসেশন এমনকি কলিং এর জন্য এর উপরেই ভরশা করে থাকেন. ফ্রি.
  22. Slack এটি আধুনিক একটি যোগাযোগের মাধ্যম যা চ্যাটিং ইন্টাফেইসকে ঘিরেই তৈরি। এটি বিশেষ করে ব্যবহৃত হয় অফিস বা টিমের মধ্যে। বিভিন্ন গ্রুপ বা চ্যানেল তৈরির মাধ্যমে মেম্বাররা নিজেদের মধ্যে চ্যাট, মেনশন, ফাইল শেয়ারিং ইত্যাদি করতে পারেন। এর জন্য বিভিন্ন বট তৈরি করেও একে আরও বেশি প্রয়োজনীয় এবং উপযোগী করে নিতে পারেন যে কেউ। ফ্রি.
  23. Dropbox ক্লাউড স্টোরেজের জন্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি প্ল্যাটফর্ম। এর ম্যাক অ্যাপটি টুলবারে থেকে খুব সহজেই আপনার প্রয়োজনীয় ফাইলকে ক্লাউডে সিঙ্ক করে নেয়। ম্যাক যেকোনো ফাইল তৈরি করার পর শুধু সেভ করার লোকেশনটি দেখিয়ে দিবেন Dropbox এর সিঙ্ক করা যেকোনো একটি ফোল্ডারে। সাথে সাথে এটি ক্লাউডে আপলোড হয়ে যাবে। অন্য ইউজারদের সাথে ফাইল শেয়ার করতেও ব্যবহার করা যায় এদের সার্ভিসকে। নির্দিষ্ট জায়গা পর্যন্ত ফ্রি।
  24. Office 365 যে যাই বলুক, মাইক্রোসফট এর তৈরি এই অফিস স্যুটটির ভাল কোন বিকল্প এখনও নেই। এর মধ্যে থাকে MS Word, MS Excel, MS Power Point এবং আরও কয়েকটি অত্যন্ত দরকারি অ্যাপ যা একাধারে ছাত্র, শিক্ষক, লেখক, হিসাবরক্ষক, চাকুরীজীবী সবার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্রদের জন্য ফ্রি।
  25. Sketch অ্যাপ, ওয়েব পেইজ বা লে-আউট ডিজাইনাদের জন্য Photoshop এর বিকল্প এবং ম্যাকের জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি অ্যাপ। যাদের Photoshop এর সব ফিচার দরকার নাই বা শুধুমাত্র অ্যাপ ডিজাইন নিয়েই ফোকাস করতে চান তাদের জন্য। এটি একটি পেইড অ্যাপ।
  26. VLC Media Player সবার অত্যন্ত পরিচিত একটি মিডিয়া প্লেয়ার। এটি ফ্রি এবং ওপেন সোর্স।
  27. uTorrent ম্যাকের জন্য একটি টরেন্ট ক্লায়েন্ট দরকার হলে এটি হতে পারে পছন্দের। যদিও অনেকে এই পারপাজে Transmission ব্যবহার করে থাকেন।
  28. Dash লিস্টের শেষের দিকে লিখছি মানেই যে এটি কম গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যাপ, বিষয়টি তা নয়। বরং, এটি লিস্টের শুরুতেও থাকতে পারতো। আপনার মাথায় যতরকম প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ফ্রেমওয়ার্ক বা ডেভেলপমেন্ট টুল এর নাম থাকতে পারে- প্রায় সবগুলোর ডকুমেন্টেশন অফলাইনেই ব্রাউজ করতে চাইলে এই অ্যাপের কোন বিকল্প নাই। এছাড়াও এতে আছে সুন্দর একটি snippet ম্যানেজার। ব্যাসিক ভার্সন ফ্রি.
  29. Dr. Cleaner ম্যাকের জন্য প্রয়োজনীয় একটি ইউটিলিটি অ্যাপ। এর মাধ্যমে একাধারে ডিস্ক ক্লিন আপ, মেমরি ক্লিনআপ এবং সিস্টেম অপটিমাইজেশনের মত কাজ গুলো সহজেই করা যায়। এর মাধ্যমে- সাইজ মোতাবেক পুরো ম্যাকের সব ফাইলকে লিস্ট করা যায় যাতে করে কোন ফাইল বা অ্যাপ কেমন জায়গা নিচ্ছে তার একটা আইডিয়া পাওয়া যায় এবং প্রয়োজনে সেটা ডিলিট বা রিমুভ করা যায়.
  30. AppCleaner ম্যাক থেকে যেকোনো রকম অ্যাপ, উইজেট বা প্লাগিন পুরোপুরি আনইন্সটল করতে চাইলে এই ছোট্ট অ্যাপটি আপনাকে সলিড কাজ করে দেখাবে।
বিঃ দ্রঃ এই লিস্টের বাইরেও আরও অনেক প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ/টুল আছে যেগুলো নির্দিষ্ট কাজের জন্য নির্দিষ্ট ইউজারের কাছে দরকারি।

macOS -এ আপনি কি কি অ্যাপ ব্যবহার করে থাকেন এবং কোন সাজেশন থাকলে কমেন্ট করুন নিচে

৩-২ঃ সুইফ্ট ল্যাঙ্গুয়েজে স্ট্রিং ও ক্যারেকটার টাইপ ভ্যারিয়েবল

Standard

এই সিরিজের পুরো পোস্ট লিস্ট এবং সম্ভাব্য কাগুজে বই এর সূচি দেখতে ক্লিক করুনbangla-ios-objective-c-swift-nuhil

আগের চ্যাপ্টারঃ সুইফ্ট (Swift) – অ্যাপলের নতুন চমক (পরিচিতি ও অন্যান্য বেসিক)

ভুমিকাঃ
অ্যাপলের নতুন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ সুইফ্ট নিয়ে লেখা আমাদের তৃতীয় সেকশনের প্রথম অধ্যায়ে সুইফ্ট সম্পর্কে পরিচিতি মুলক আলোচনা হয়েছে। আমরা সুইফ্ট ল্যাঙ্গুয়েজের বেসিক সিনট্যাক্স, ভ্যারিয়েবল ও কনস্ট্যান্ট ডিক্লেয়ার করা, বিভিন্ন ধরনের অপারেটর সম্পর্কে জেনেছি। এই অধ্যায়ে ক্যারেকটার ও স্ট্রিং ম্যানিপুলেশনের বিস্তারিত থাকবে।

ক্যারেকটার ও স্ট্রিং ঃ
অন্যান্য বেসিক ডাটাটাইপ (Integer, Float, Double) গুলোর মতই ক্যারেকটার (Character) একটি ডাটাটাইপ যা এক বাইট (Byte) ডাটা সংরক্ষন করে। অন্যদিকে ক্যারেকটার টাইপ অ্যারে কে স্ট্রিং(String) বলা হয়। অর্থাৎ যদি একাধিক ক্যারেকটার একত্রে কোন নির্দিষ্ট নিয়মে সাজানো হয় তাহলে এই ক্যারেকটারগুলোকে একত্রে একটি স্ট্রিং বলা হয়। যেমন ঃ “Steve Jobs”, “Swift”, “Programming”, “Macbook Pro and My IPhone” ইত্যাদি। অনেকসময় একটি ক্যারেকটার কে ও স্ট্রিং হিসেবে ব্যবহার করা যায় যার উদাহরন আমরা একটু পরেই দেখব।

অন্যান্য প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের চেয়ে সুইফ্ট এ স্ট্রিং ও ক্যারেকটার ম্যানিপুলেট করা অনেক বেশী ফাস্টার এবং সুইফ্ট ক্যারেকটার গুলোতে ইউনিকোড ক্যারেকটার স্টোর করে। অর্থাৎ যেকোন ক্যারেকটারে ভ্যালু হিসেবে ইউনিকোড স্টোর করা যায় যা এনকোডিং ডিকোডিং এর ঝামেলা কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া সুইফ্ট ল্যাঙ্গুয়েজে স্ট্রিং ম্যানিপুলেশন খুবই সহজ। খুব সহজেই যেকোন স্ট্রিং এর কোন ইনডেক্সে কনস্ট্যান্ট, ক্যারেকটার, নাম্বার, এক্সপ্রেশন ইত্যাদি ইনসার্ট করা যায়। এভাবে স্ট্রিং এর মধ্যে কোন কিছু ইনসার্ট করাকে ইন্টারপুলেশন বলা হয়।

স্ট্রিং ডিক্লেয়ার করাঃ
কিভাবে ভ্যারিয়েবল ও কনস্ট্যান্ট ডিক্লেয়ার করতে হয় তা আমরা প্রথম অধ্যায়ে শিখেছি। একই ভাবে স্ট্রিং টাইপ ভ্যারিয়েবল বা কনস্ট্যান্ট ডিক্লেয়ার করতে হয়।

let stringVariable = "যেকোন ইউনিকোড সাপোর্টেড ক্যারেকটারসমুহ"
let anotherStringVariable: String = "Yosemite is the name of latest OS X"

যেহেতু stringVariable ও anotherStringVariable দুটিতে স্ট্রিং দিয়ে ইনিশিয়ালাইজ করা হয়েছে তাই এই কনস্ট্যান্ট দুটি এখন স্ট্রিং টাইপ কনস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করবে। এবং এদের উপর যাবতীয় স্ট্রিং অপারেশনগুলো করা যাবে।

স্ট্রিং এ ক্যারেকটার ছাড়াও অন্যান্য যা যা থাকতে পারে ঃ

  • সব ধরনের স্পেশাল (escaped special) ক্যারেকটার যেমন ঃ \০ ( null ), \n (new line), \\ (backslash), \t (horizontal tab), \” (double quote), \’ (single quote) ইত্যাদি।
  • এক বাইটের ইউনিকোড স্কেলার (\xnn, nn এর জায়গায় যেকোন দুটি হেক্সাডেসিমেল ডিজিট বসতে পারে)
  • দুই বাইটের ইউনিকোড স্কেলার (\xnnnn, nnnn এর জায়গায় যেকোন চারটি হেক্সাডেসিমেল ডিজিট বসতে পারে)
  • চার বাইটের ইউনিকোড স্কেলার (\xnnnnnnnn, nnnnnnnn এর জায়গায় যেকোন আটটি হেক্সাডেসিমেল ডিজিট বসতে পারে)

এই চারধরনের বিশেষ ক্যারেকটার গুলো নিয়ে নিচে চারটি উদাহরন দেওয়া হলঃ

let wiseWords = "\"Imagination is more important than knowledge\" - Einstein"
// "Imagination is more important than knowledge" - Einstein
let dollarSign = "\x24"        // $,  Two Byte Unicode scalar U+0024
let blackHeart = "\u2665"      // ♥,  Four Byte Unicode scalar U+2665
let sparklingHeart = "\U0001F496"  // 💖, Eight Byte Unicode scalar U+1F496

ফাঁকা স্ট্রিং ইনিশিয়ালাইজ করাঃ
সাধারনত প্রোগ্রামের শুরুতে ফাঁকা স্ট্রিং ইনিশিয়ালাইজ করা হয় যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অপারেশনের মাধ্যমে বড় সাইজের ক্যারেকটারের কালেকশন হয়ে কোন অর্থ বা তথ্য বহন করে। দুইভাবে এরকম ফাঁকা স্ট্রিং ইনিশিয়ালাইজ করা যায়। ভ্যারিয়েবল বা কনস্ট্যান্টে সরাসরি কোন ফাঁকা স্ট্রিং অ্যাসাইন করে অথবা String টাইপের নতুন ইনস্ট্যান্স ইনিশিয়ালাইজ করে ফাঁকা স্ট্রিং ইনিশিয়ালাইজ করা হয়। নিচে দুই ধরনের পদ্ধতির উদাহরন দেওয়া হলঃ

var ফাঁকাস্ট্রিং = ""               // empty string literal
var emptyString = ""
var anotherEmptyString = String()  // initialiser syntax
// these three strings are all empty, and are equivalent to each other

প্রয়োজনে খুব সহজেই isEmpty প্রোপার্টির বুলিয়ান ভ্যালু দেখে কোন স্ট্রিং ফাঁকা কিনা তা চেক করা যায়।

var emptyString = ""
if emptyString.isEmpty {
    println("Nothing to see here")
}
// prints "Nothing to see here"

স্ট্রিং মিউট্যাবিলিটি (String Mutability) ঃ
কোন স্ট্রিং মিউট্যাবল( Mutable or Modifiable) হবে কিনা তা নির্ধারিত হয় ভ্যারিয়েবল বা কনস্ট্যান্ট ডিক্লেয়ার করার সময়। যদি স্ট্রিংটি “var” টাইপ দিয়ে ডিক্লেয়ার করা হয় তাহলে এটিকে মডিফাই করা যাবে। কিন্তু যদি এই স্ট্রিংটি “let” টাইপ হয় তাহলে এটি একটি কনস্ট্যান্ট এর ন্যায় আচরন করবে। তাই “let” টাইপ স্ট্রিং মিউট্যাবল না। নিচের উদাহরন টি দেখলেই পরিস্কার হয়ে যাবে ব্যাপার টি।

var variableString = "Swift is"
variableString += " a new programming language."
// variableString is now "Swift is a new programming language."
 
let constantString = "Swift is very much"
constantString += " faster and interactive"
// this reports a compile-time error - a constant string cannot be modified

নোটঃ
সুইফ্ট (Swift) এর এই স্ট্রিং এর সাথে অবজেকটিভ-সি (Objective-C) এর NSString রয়েছে ব্রিজ কানেকশন। আমরা যদি Cocoa অথবা Cocoa Touch এর Foundation ক্লাস নিয়ে কাজ করি তাহলে সুইফ্ট এর স্ট্রিং টাইপ ভ্যারিয়েবলগুলোর জন্য NSString ক্লাসের সব এপিআই (API) কল করা যায়।

Cocoa বা Cocoa Touch এর Foundation ক্লাসের NSString এর ইনস্ট্যান্স তৈরী করে যদি ফাংশন বা মেথডে পাঠানো হয় তাহলে মুলত ওই স্ট্রিং এর রেফারেন্স বা পয়েন্টারকেই পাঠানো হয় যা নতুন পয়েন্টার বা রেফারেন্সে অ্যাসাইন করা হয়। আসল স্ট্রিং এর কোন কপি তৈরী হয় না। অন্যদিকে Swift এর String ভ্যালু তৈরী করে যদি কোন ভ্যারিয়েবলে অ্যাসাইন করা হয় অথবা কোন মেথড বা ফাংশনে পাঠানো তাহলে প্রথমে ওই স্ট্রিং এর একটি কপি তৈরী হয় এবং তারপর এই নতুন স্ট্রিং টি মেথডে পাঠানো হয় অথবা নতুন ভ্যারিয়েবলে অ্যাসাইন করা হয়।
আমাদের কাগুজে বইতে এই সম্পর্কে আরও বিস্তারিত থাকবে।

ক্যারেকটার ম্যানিপুলেশনঃ
এতক্ষনে আমরা জেনে গেছি যে, স্ট্রিং আসলে একত্রে থাকা অনেকগুলো Character যা সুইফ্ট এ String টাইপ দিয়ে রিপ্রেজেন্ট করা হয়। প্রত্যেকটি Character আবার একটি ইউনিকোড ক্যারেকটার। সুইফ্টে for-in লুপ দিয়ে একটি স্ট্রিং এর প্রত্যেকটি ক্যারেকটার এক্সেস করা যায়। for-in লুপ এর সিনট্যাক্স ও বিস্তারিত পরের অধ্যায়ে থাকবে। এই মুহুর্তে আমরা একটি স্ট্রিং এর প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সবগুলা Character এক্সেস করব এবং তা দেখব।

for ch in "Macintosh" {
    println(ch)
}
// M
// a
// c
// i
// n
// t
// o 
// s
// h

আবার কোন এক ক্যারেকটারের স্ট্রিং থেকে Character টাইপ ভ্যারিয়েবল বা কনস্ট্যান্ট ডিক্লেয়ার করার জন্য নিচের মত কোড লিখতে হয়।

let charConstant: Character = "$"
var charVariable: Character = "ক"

স্ট্রিং এ থাকা মোট ক্যারেকটারের সংখ্যা জানাঃ
countElements() একটি গ্লোবাল মেথড যা আর্গুমেন্ট হিসেবে একটি স্ট্রিং নেয় এবং এই স্ট্রিং এ কয়টি ক্যারেকটার আছে তা রিটার্ন করে।

let intro: String = "In Swift, It is too easy to count characters."
var countChar = countElements(intro); 
println(countChar)  // 45

নোটঃ
সুইফ্ট এর স্ট্রিং এর ক্যারেকটারগুলো ইউনিকোড ক্যারেকটার হয় এবং ইউনিকোডে বিভিন্ন ক্যারেকটারের সাইজ ও আলাদা হয়। একারনে সুইফ্ট ল্যাঙ্গুয়েজে সকল ক্যারেকটার একই সাইজের মেমরী নেয় না। তাই countElements() মেথডের রিটার্ন ভ্যালু ও আমাদের চাওয়া অনুযায়ী হয় না। তাই কোন স্ট্রিং এ ক্যারেকটারের সঠিক সংখ্যা জানার জন্য লুপ ব্যবহার করে প্রত্যেকটি ক্যারেকটার গননা করতে হয়। নিচের উদাহরনটিতে প্রথম লাইনে counter ভ্যারিয়েবল ০ দিয়ে ইনিশিয়ালাইজ করা হয়েছে। এরপর for-in লুপ দিয়ে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকটি ক্যারেকটার ভিজিট করা হয় এবং প্রতিবার counter এর ভ্যালু ১ করে বাড়ানো হয়। ফলে for-in টির এক্সিকিউশন শেষ হলে counter ভ্যারিয়েবলে “Macintosh” এর মোট ক্যারেকটারের সংখ্যা পাওয়া যাবে।

var counter = 0
for ch in "Macintosh" {
    counter++;
}
println("This string has \(counter) characters"); // This string has 9 characters

স্ট্রিং এবং ক্যারেকটার কনক্যাট (Concate) করা ঃ
স্ট্রিং ও ক্যারেকটার টাইপ ভ্যারিয়েবল বা কনস্ট্যান্ট একত্রে যুক্ত (Concatenation) করে নতুন স্ট্রিং ইনিশিয়ালাইজ করা যায়। আবার কোন স্ট্রিং এর সাথে ক্যারেকটার যুক্ত (Concate) করে স্ট্রিং টিকে মডিফাই (Modify) করা যায়। নিচের উদাহরন গুলো দেখলেই ব্যপারগুলো বোঝা যাবে।

//Example 1
let string1 = "hello"
let string2 = " Steve"
let character1: Character = "!"
let character2: Character = "?"
 
let stringPlusCharacter = string1 + character1        // equals "hello!"
let stringPlusString = string1 + string2              // equals "hello Steve"
let characterPlusString = character1 + string1        // equals "!hello"
let characterPlusCharacter = character1 + character2  // equals "!?"

//Example 2
var instruction = "follow"
instruction += string2
// instruction now equals "follow Steve"
 
var welcome = "good morning"
welcome += character1
// welcome now equals "good morning!"

স্ট্রিং ইন্টারপুলেশন (String Interpolation)ঃ
কোন স্ট্রিং এর মধ্যে নতুন করে কোন কনস্ট্যান্ট, ভ্যারিয়েবল, এক্সপ্রেশন ইত্যাদির মিশিয়ে নতুন কোন স্ট্রিং তৈরী করা কে বলা হয় স্ট্রিং ইন্টারপুলেশন। এজন্য যে নতুন ভ্যারিয়েবল বা কনস্ট্যান্ট বা এক্সপ্রেশন মেশানো হবে তা প্যারেনথেসিস বা “()” এর ভিতর লিখে তার আগে একটি ব্যাকস্ল্যাশ দিতে হয়। তাহলে স্ট্রিং এই অংশে নতুন জিনিস টি ইনসার্ট হয়ে যায়।

let multiplier = 3
let message = "\(multiplier) times 2.5 is \(Double(multiplier) * 2.5)"
// message is "3 times 2.5 is 7.5"

উপরের কোডটিতে multiplier কনস্ট্যান্টটি ২ বার ব্যবহার করে একটি নতুন স্ট্রিং message তৈরী করা হয়েছে। এজন্য যেসব পজিশনে multiplier এর ভ্যালু ইনসার্ট করা হবে সেসব স্থানে প্রথমে ব্যাকস্ল্যাশ ও তারপর প্যারেনথেসিস দিয়ে multiplier লেখা হয়েছে। ইন্টারপুলেশনের সময় “\(multiplier)” এর পরিবর্তে এখানে multiplier এর ভ্যালু তথা 3 বসবে। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হল প্রথম multiplier টি একটি কনস্ট্যান্ট যা সরাসরি স্ট্রিং টিতে ইনসার্ট করা হয়েছে। কিন্তু ২য় টিতে একটি এক্সপ্রেশন “Double(multiplier) * 2.5” ইনসার্ট করা হয়েছে। প্রথমে multiplier এর ভ্যালু Double দিয়ে কাস্ট (Cast) করে তারপর 2.5 দিয়ে গুন করার পর যে রেসাল্ট পাওয়া যাবে তাই ইনসার্ট করা হয়েছে স্ট্রিং টিতে।

স্ট্রিং কমপ্যারিজন (String Comparison)ঃ
সুইফ্ট (Swift) এর String টাইপের মধ্যকার কমপ্যারিজন করার জন্য ৩টি মেথড রয়েছে : স্ট্রিং(String) ইকুয়্যালিটি, প্রিফিক্স(Prefix) ইকুয়্যালিটি এবং সাফিক্স(Suffix) ইকুয়্যালিটি।

২ টি স্ট্রিং ইকুয়্যাল হবে যদি এবং কেবল যদি উভয় স্ট্রি এর ক্যারেকটারগুলো একই হয় এবং একই অর্ডারে থাকে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে বড় হাতের অক্ষর আর ছোট হাতের অক্ষরের ইউনিকোড আলাদা হওয়ায় ক্যারেকটার হিসেবেও এরা আলাদা হবে।

let quotation = "We're a lot alike, you and I."
let sameQuotation = "We're a lot alike, you and I."
if quotation == sameQuotation {
    println("These two strings are considered equal")
}
// prints "These two strings are considered equal"

স্ট্রিং টিতে কোন পার্টিকুলার (particular) স্ট্রিং প্রিফিক্স বা সাফিক্স আছে কিনা তা চেক করার জন্য রয়েছে hasPrefix বা hasSuffix মেথড। উভয় মেথড স্ট্রিং টাইপ আর্গুমেন্ট নিয়ে বুলিয়ান ভ্যালু রিটার্ন করে। আর্গুমেন্টের প্রত্যেকটি ক্যারেকটার মুল স্ট্রিং এ একই অর্ডারে আছে কিনা সেটাই চেক করে মেথড দুটি।

let comment = "Swift is a awesome language."
if comment.hasPrefix("Swift"){
   // String comment contains a "Swift" as prefix  
}

if comment.hasSuffix("language."){
   // String comment contains a "language." as Suffix  
}

উপরের উদাহরনটিতে comment একটি স্ট্রিং টাইপ কনস্ট্যান্ট নেওয়া হয়েছে। hasPrefix(“Swift”) মেথড টি মুলত comment স্ট্রিং এর প্রথমে “Swift” স্ট্রিং টি আছে কিনা। যেহেতু comment স্ট্রিং টিতে প্রিফিক্স হিসেবে “Swift” আছে তাই মেথডটি TRUE রিটার্ন করে। আবার hasSuffix(“language.”) মেথডটি এটাই চেক করছে যে comment স্ট্রিং টি “language.” দিয়ে শেষ হয়েছে কিনা। যেহেতু স্ট্রিং টির শেষ “language.” দিয়ে হয়েছে তাই মেথড টি TRUE রিটার্ন করে।

কেস(Case) কনভারসনঃ
স্ট্রিং ম্যানিপুলেশনের একটি কমন টাস্ক হল কেস কনভারসন। অর্থাৎ ছোট হাতের অক্ষর থেকে বড় হাতের অক্ষর বা বড় হাতের অক্ষর থেকে ছোট হাতের অক্ষরে রুপান্তর করা। সুইফ্টে এই কাজ যথেষ্ট সহজেই করা যায়।

let normal = "Would you mind giving me a glass of Water?"
let uppercase = normal.uppercaseString
// uppercase is equal to "WOULD YOU MIND GIVING ME A GLASS OF WATER?"
let lowercase = normal.lowercaseString
// lowercase is equal to "would you mind giving me a glass of water?"

পরিসমাপ্তিঃ
নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন যে আমরা বার বার ইউনিকোড শব্দটি উচ্চারন করছি। স্ট্রিং ও ক্যারেকটার হ্যান্ডলিং এর জন্য সুইফ্টের রয়েছে কিছু বিশেষ মেথড যা দিয়ে সহজেই স্ট্রিং ও ক্যারেকটারের ইউনিকোড রিপ্রেজেন্টেশন ম্যানিপুলেশন করা যায়। এসম্পর্কে বিস্তারিত আমাদের কাগুজে বইতে পাওয়া যাবে।

বইয়ের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ফ্যান পেজে

পরের চাপ্টারঃ 
পরের চাপ্টারে Collections তথা Arrays ও Dictionaries নিয়ে বিস্তারিত থাকবে। এছাড়াও থাকবে Enumerations ও Closures নিয়ে অল্প বিস্তর আলোচনা।

পরের চাপ্টারঃ  কালেকশনস (অ্যারে ও ডিকশনারী), ইনুমারেশন ও ক্লোজার

২-২ঃ iOS অ্যাপে ব্যাসিক ইনপুট আউটপুট ও কিবোর্ড হ্যান্ডেলিং

Standard

এই সিরিজের পুরো পোস্ট লিস্ট এবং সম্ভাব্য কাগুজে বই এর সূচি দেখতে ক্লিক করুনbangla-ios-objective-c-swift-nuhil

আগের চ্যাপ্টারঃ  ২-১ঃ টুলস সেটআপ এবং একটি সাধারণ হ্যালো ওয়ার্ল্ড অ্যাপ তৈরি

ভূমিকাঃ
এই চ্যাপ্টারে আমরা iOS অ্যাপে কিভাবে সাধারণ ডাটা ইনপুট দেয়া যায় এবং সেটা কিভাবে হ্যান্ডেল করতে হয় তা আলোচনা করবো। ডাটা ইনপুট এর সাথে সাথে যেহেতু কিবোর্ড এর ব্যাপারটাও চলে আসে তাই কিবোর্ড হ্যান্ডেলিং নিয়েও সহজ কিন্তু সবসময় কাজে লাগে এমন কিছু ফাংশনের ব্যবহার শিখবো। আর এর মাঝখানে দেখে নেব কিভাবে Apple ডকুমেন্টেশন দেখে দেখে হঠাৎ যেকোনো অচেনা এলিমেন্ট বা অবজেক্ট নিয়ে কাজ করা যেতে পারে।
নিচের উদাহরণ হিসেবে আমরা সেরকম একটি অ্যাপ ধাপে ধাপে করবো যেখানে এই বিষয় গুলোর বাস্তব প্রয়োগ দেখা যাবে। চলুন শুরু করি।

প্রোজেক্ট ও ইউজার ইন্টারফেস তৈরিঃ
প্রথমে Xcode ওপেন করে একটি নতুন প্রোজেক্ট তৈরি করুন File -> New -> Project… এ ক্লিক করে। এক্ষেত্রে টাইপ হিসেবে সিলেক্ট করুন iOS -> Application -> Single View Application. নিচের মত করে,
2-2-1
তারপরের স্ক্রিনে এভাবে,
2-2-2

প্রোজেক্ট তৈরি হবার পর Xcode এর বাম পাশ থেকে Main.storyboard ফাইলটি সিলেক্ট করুন। ডান পাশে একটিই মাত্র ভিউ ফাইল দেখা যাবে যেহেতু আমাদের অ্যাপ এর টাইপ সিঙ্গেল ভিউ। এরপর Xcode এর ডান পাশের নিচের ইন্টারফেস বিল্ডার প্যানেল থেকে মেইন ভিউ ফাইল বা স্ক্রিনের উপর একটি Label টাইপ এলিমেন্ট নিন,
Screen Shot 2014-06-19 at 2.11.20 AM
এবং সেটা সিলেক্ট থাকা অবস্থায় Xcode এর ডান পাশের Attribute Inspector ব্যবহার করে সেটার বিভিন্ন ভিজুয়াল অ্যাপেয়ারেন্স পরিবর্তন করে নিন ইচ্ছা মত।
Screen Shot 2014-06-19 at 2.12.25 AM
এরপর আমাদের একমাত্র ভিউ এর উপর একটি Text Field টাইপ এলিমেন্ট নিন এবং সেটারও বিভিন্ন প্রোপার্টি যেমন সাইজ, ফন্ট ইত্যাদি পরিবর্তন করে নিন ডান পাশের Attribute Inspector ব্যবহার করে। এভাবে ঠিক নিচের ছবির মত একটি লে-আউট তৈরি করে নিন। ধরে নিচ্ছি উপরে বলা কথা গুলো বুঝতে পেরেছেন। না বুঝলে এই সেকশনের ১ম চ্যাপ্টার ঘুরে আসুন
2-2-3

আউটলেট তৈরিঃ
আমাদের ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইন হয়ে গেছে দুটি ইউআই UI এলিমেন্ট দিয়ে। এখন এগুলোর জন্য আউটলেট তৈরি করতে হবে যাতে করে আমাদের View Controller কোডের মধ্যে থেকে এগুলোর রেফারেন্স পাওয়া যায়। এজন্য প্রথমে Xcode এর ডান দিকের উপর পাশ থেকে Assistant Editor বাটনটি এনাবেল করে নিন (নিচের ছবিতে 1 চিহ্নিত)। এনাবেল হলে ভিউ ফাইলের পাশেই আরও একটি এরিয়া তৈরি হবে যেখানে ViewController.h ফাইলটি ওপেন অবস্থায় থাকার কথা। ওই ফাইল ওপেন না থাকলে নিচের ছবিতে 2 চিহ্নিত জায়গাটায় ক্লিক করে ViewController.h ফাইলকে ওখানে ওপেন করতে পারেন। এখন কিবোর্ডের Control কি চেপে ধরে আমাদের ভিউ ফাইলের টেক্সট ফিল্ডের উপর থেকে মাউস ক্লিক চেপে ধরে ডান পাশের ফাইলের @interface এর নিচে যেকোনো জায়গায় ছেড়ে দিন। নিচের মত একটি ছোট পপ-আপ আসবে যেখানে এটার প্রোপার্টি টাইপ, নাম ইত্যাদি ঠিক করে দিতে পারবেন।
2-2-5

এভাবে সুইচ এলিমেন্ট, ম্যাসেজ দেখানোর লেবেল এবং বাটনটির প্রোপার্টিও ঠিক করে দিন নিচের কোডের মত,

// ViewController.h

#import <UIKit/UIKit.h>

@interface ViewController : UIViewController
@property (strong, nonatomic) IBOutlet UITextField *courseTitle;
@property (strong, nonatomic) IBOutlet UISwitch *continueCourse;
@property (strong, nonatomic) IBOutlet UILabel *messageBox;
@property (strong, nonatomic) IBOutlet UIButton *showButton;

@end

কিবোর্ড হ্যান্ডেলিংঃ
এখন পর্যন্ত ইন্টারফেস এলিমেন্ট গুলো এবং তাদের আউটলেট গুলো রেডি। এই অবস্থায় অ্যাপটি রান করে দেখতে পারেন। যদি সব ঠিক ঠাক ঠাকে তাহলে টেক্সট ফিল্ডটিতে কিছু লেখার জন্য ট্যাপ/ক্লিক করলে সিমুলেটরের কিবোর্ডটী চলে আসবে এবং সেটা ব্যবহার করে কিছু লিখতে পারবেন। কিন্তু লেখা শেষে দেখবেন কিবোর্ডটী সিমুলেটর থেকেই যাচ্ছে। আড়ালে চলে যাচ্ছে না।
এখন আমরা কিবোর্ড হ্যান্ডেলিং এর এই সমস্যার একটা সমাধান করবো। এ জন্য প্রথমে ViewController.h ফাইলে textFieldReturn: নামের একটি ফাংশন ডিক্লেয়ার করবো। মূলত এই ফাংশনের মাধ্যমে আমরা কিবোর্ড এর রিটার্ন কি চেপে কিবোর্ডকে হাইড করে ফেলার একটা উপায় প্রয়োগ করবো।

// ViewController.h

#import <UIKit/UIKit.h>

@interface ViewController : UIViewController
@property (strong, nonatomic) IBOutlet UITextField *courseTitle;
@property (strong, nonatomic) IBOutlet UISwitch *continueCourse;
@property (strong, nonatomic) IBOutlet UILabel *messageBox;
@property (strong, nonatomic) IBOutlet UIButton *showButton;

-(IBAction)textFieldReturn:(id)sender;

@end

এখন এই ফাংশনটির ইমপ্লিমেন্টেশন লিখবো ViewController.m ফাইলে নিচের মত করে,

// ViewController.m

#import "ViewController.h"

@interface ViewController ()

@end

@implementation ViewController

- (void)viewDidLoad
{
    [super viewDidLoad];
	// Do any additional setup after loading the view, typically from a nib.
}

-(IBAction)textFieldReturn:(id)sender
{
    [sender resignFirstResponder];
}

- (void)didReceiveMemoryWarning
{
    [super didReceiveMemoryWarning];
    // Dispose of any resources that can be recreated.
}

@end

উপরের textFieldReturn: মেথডের মধ্যে থেকে আমরা যা করছি তা হল, ইভেন্টটি যে অবজেক্ট দারা ট্রিগারড হয়েছে সেই অবজেক্টের resignFirstResponder মেথডকে কল করছি। First Responder হচ্ছে সেই অবজেক্ট যেটা এই মুহূর্তে ইউজারের সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট করছে, এ ক্ষেত্রে কিবোর্ডটাই ফার্স্ট রেস্পন্ডার।

এখন textFieldReturn: মেথডটি যাতে সঠিক সময় কল হয় সেজন্য কিছু কাজ করতে হবে। ভিউ কন্ট্রোলার ফাইলের টেক্সট ফিল্ডটিকে সিলেক্ট করুন এবং Xcode এর ডান পাশ থেকে Connection Inspector সিলেক্ট করুন। এরপর Did End on Exit নামের সার্কেল থেকে মাউস ক্লিক করে টেনে এনে ভিউ ফাইলের নিচের View Controller আইকনের উপর ছেড়ে দিন এবং সেখান থেকে textFieldReturn সিলেক্ট করুন। নিচের ছবির মত করে,
Screen Shot 2014-06-19 at 2.20.22 AM

এ অবস্থায় সব সেভ করে যদি অ্যাপটি রান করেন এবং টেক্সট ফিল্ডে কিছু লিখে কিবোর্ডের Return বাটনে ক্লিক/ট্যাপ করেন তাহলে কিবোর্ডটি হাইড হয়ে যাবে, যা আমরা করতে চাচ্ছিলাম।
আরও একটা সিচুয়েশনে কিবোর্ড হাইড করা ভালো ইউজার এক্সপেরিএন্স যেমন, টেক্সট ফিল্ড বাদে ভিউ এর অন্য কোথাও ট্যাপ করলেও যাতে কিবোর্ডটি হাইড হয়ে যায়। চলুন সেই ব্যবস্থা করি।
এর জন্য আমরা touchesBegan: নামক ইভেন্ট হ্যান্ডেলার মেথডটি ইমপ্লিমেন্ট করবো অর্থাৎ স্ক্রিনে টাচ হলেই এটি সক্রিয় হবে। কিন্তু এই মেথডের মধ্যে আবার এটিও চেক করতে হবে যাতে কেবল মাত্র আমাদের টেক্সট ফিল্ড বাদে অন্য কোথাও টাচ হলেই কিবোর্ড হাইডের মেথড কল করতে পারি। নিচের মত করে মেথডটি ViewController.m ফাইলে লিখে ফেলুন। তাহলে আপডেটেড ফাইলটি হল,

// ViewController.m

#import "ViewController.h"

@interface ViewController ()

@end

@implementation ViewController

- (void)viewDidLoad
{
    [super viewDidLoad];
	// Do any additional setup after loading the view, typically from a nib.
}

-(IBAction)textFieldReturn:(id)sender
{
    [sender resignFirstResponder];
}

- (void)touchesBegan:(NSSet *)touches withEvent:(UIEvent *)event {
    
    UITouch *touch = [[event allTouches] anyObject];
    if ([self.courseTitle isFirstResponder] && [touch view] != self.courseTitle) {
        [self.courseTitle resignFirstResponder];
    }
    [super touchesBegan:touches withEvent:event];
}

- (void)didReceiveMemoryWarning
{
    [super didReceiveMemoryWarning];
    // Dispose of any resources that can be recreated.
}

@end

এখন আবার অ্যাপটি রান করুন এবং টেক্সট ফিল্ডে ক্লিক করুন। স্বভাবতই কিবোর্ড চলে আসবে। এখন হয় কিবোর্ডের return বাটন চাপুন নয়ত স্ক্রিনের যেকোনো জায়গায় ক্লিক/ট্যাপ করুন, কিবোর্ড হাইড হয়ে যাবে।

ইনপুট আউটপুটঃ
ওকে, এবার আসুন ডাটা ইনপুট এবং সেটা স্ক্রিনে আউটপুটের ব্যবস্থা করা যাক। ViewController.h ফাইলে নতুন একটি ফাংশন ডিক্লেয়ার করুন যাতে আপডেটেড ফাইলটি দেখতে নিচের মত হয়,

// ViewController.h

#import <UIKit/UIKit.h>

@interface ViewController : UIViewController
@property (strong, nonatomic) IBOutlet UITextField *courseTitle;
@property (strong, nonatomic) IBOutlet UISwitch *continueCourse;
@property (strong, nonatomic) IBOutlet UILabel *messageBox;
@property (strong, nonatomic) IBOutlet UIButton *showButton;

-(IBAction)textFieldReturn:(id)sender;
-(IBAction)outputData;

@end

এবার এই outputData মেথডটির ইমপ্লিমেন্টেশন লিখে ফেলুন ViewController.m ফাইলে যাতে পুরো ফাইলটি দেখতে নিচের মত হয়,

// ViewController.m

#import "ViewController.h"

@interface ViewController ()

@end

@implementation ViewController

- (void)viewDidLoad
{
    [super viewDidLoad];
	// Do any additional setup after loading the view, typically from a nib.
}

-(IBAction)textFieldReturn:(id)sender
{
    [sender resignFirstResponder];
}

- (void)touchesBegan:(NSSet *)touches withEvent:(UIEvent *)event {
    
    UITouch *touch = [[event allTouches] anyObject];
    if ([self.courseTitle isFirstResponder] && [touch view] != self.courseTitle) {
        [self.courseTitle resignFirstResponder];
    }
    [super touchesBegan:touches withEvent:event];
}

- (IBAction)outputData {
    NSString *isCourseOngoing = (self.continueCourse.on)? @"Ongoing" : @"Not Ongoing";
    
    self.messageBox.text = [NSString stringWithFormat:@"%@ is %@", self.courseTitle.text, isCourseOngoing];
}

- (void)didReceiveMemoryWarning
{
    [super didReceiveMemoryWarning];
    // Dispose of any resources that can be recreated.
}

@end

এক্সট্রা টিপস (Apple ডকুমেন্টেশন ফলো করা) ঃ
উপরে খেয়াল করুন, outputData মেথডের মধ্যে প্রথমে আমরা isCourseOngoing -এ একটা স্ট্রিং ভ্যালু সেট করছি যেটা নির্ভর করছে continueCourse নামের আউটলেট প্রোপার্টির অর্থাৎ সুইচ এলিমেন্টটির বর্তমান অবস্থার উপর। এখন কথা হচ্ছে এই যে এখানে continueCourse.on লিখে ওই অবজেক্টটির স্ট্যাটাস অ্যাক্সেস করলাম সেটা হঠাৎ আমরা জেনে নিতে পারি কই থেকে?

খেয়াল করলে দেখবেন ওই অবজেক্টটি একটি UISwitch টাইপের। অর্থাৎ এর বিস্তারিত জানা যাবে UISwitch ক্লাসের রেফারেন্স ঘেঁটে দেখলেই। আপনি ঠিকি ধরেছেন, এরকম যেকোনো ক্লাসের রেফারেন্স দেখে নিয়ে সেটার অবজেক্টের উপর আমরা বিভিন্ন অপারেশন করতে পারি। যেমন এই ক্লাসের রেফারেন্স থেকে আমরা জানতে পারি এর কি কি প্রোপার্টি ও মেথড আছে এবং সেরকম একটা প্রোপার্টি হচ্ছে on প্রোপার্টি। এই লিঙ্কে গেলেই দেখতে পারবেন লেখা আছে নিচের মত,
Screen Shot 2014-06-19 at 1.25.56 AM

অর্থাৎ আমরা continueCourse.on এর মাধ্যমে ওই প্রোপার্টির ভ্যালু অ্যাক্সেস করে ঠিক করতে পারি সুইচটি কি অন নাকি অফ অবস্থায় আছে।
তার ঠিক পরেই আমরা messageBox লেবেল এর text প্রোপার্টি হিসেবে একটি ফরম্যাটেড স্ট্রিং সেট করছি; courseTitle এর text প্রোপার্টি এবং isCourseOngoing এর ভ্যালু মিলিয়ে।

এবার শেষ বারের মত অ্যাপটি রান করুন আর টেক্সট ফিল্ডে যেকোনো ভ্যালু এবং তার নিচের সুচটি অন/অফ করে Show Me Back বাটনে ক্লিক করে দেখুন বাটনের ঠিক উপরের জায়গায় আপনার মন মত আউটপুট দেখাচ্ছে কিনা।

বইয়ের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ফ্যান পেজে

পরের চ্যাপ্টারঃ
পরের চ্যাপ্টারে অটো লে-আউট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে এবং তার উপর ভিত্তি করে একটি পুরো উদাহরণ থাকবে আর তার পর পরই আসবে টেবিল ভিউ নিয়ে চ্যাপ্টার।

৬-১ – অবজেক্টিভ-সি (Objective-C) নাকি সুইফ্ট (Swift) ?

Standard

এটি হচ্ছে আমাদের চলতি “বাংলায়- অবজেক্টিভ-সি, সুইফ্ট এবং iOS অ্যাপ ও গেম ডেভেলপমেন্ট” সম্পর্কিত সিরিজ পোস্ট ও প্রকাশিতব্য বইয়ের ষষ্ঠ সেকশন (কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর) এর প্রথম চ্যাপ্টার।

ভূমিকাঃ
আপনি যদি Apple এর WWDC (Worldwide Developer’s Conference) সম্পর্কে মোটা মুটি অবগত থাকেন অথবা ইনফরমেশন টেকনোলজি সম্পর্কিত  আন্তর্জাতিক খবর গুলো খেয়াল করে থাকেন, তাহলে জেনে থাকবেন যে Apple তাদের WWDC 2014 ইভেন্টে সবচেয়ে চমকপ্রদ যে আবিষ্কারটির ঘোষণা দিয়েছে তা হচ্ছে তাদের তৈরি সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের খবর। যার নাম Swift. তারা চায় তাদের ভবিষ্যৎ iOS এবং OSX অ্যাপ্লিকেশন গুলো এই ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়েই ডেভেলপ করা হোক যাতে করে এই প্ল্যাটফর্মের অ্যাপ গুলোর পারফরমেন্স আরও ভালো হয়।
এটাকে তারা বলছে, দ্রুতগতি সম্পন্ন, আধুনিক, নিরাপদ ও ইন্টার‌অ্যাক্টিভ একটি ল্যাঙ্গুয়েজ। অন্যান্য ল্যাঙ্গুয়েজের মত অনেক অনেক জনপ্রিয় ফিচার এই ল্যাঙ্গুয়েজে যুক্ত আছে। এর ডিজাইন এমন ভাবে করা হয়েছে যাতে সিনট্যাক্স আরও সহজ হয় এবং iOS ও OSX ডেভেলপমেন্ট শুরু করতে নতুনদের বাধা আরও কম হয়। এমনকি আসছে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ তে যে Xcode 6 লঞ্চ হতে যাচ্ছে তার সঙ্গে Playground নামের একটি ফিচার থাকছে যার মাধ্যমে বিভিন্ন কোড, প্রোগ্রামিং লজিক এবং ক্যালকুলেশনের লাইভ প্রিভিউ দেখা যাবে পুরো প্রোগ্রাম রান না করেই। অর্থাৎ Apple বরাবরই ডেভেলপার ফ্রেন্ডলি একটা ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম দেয়ার ব্যাপারে সবসময় গুরুত্ব দিয়েছে যারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে Swift এর জন্ম বলতে পারেন। অতএব, ভয় না পেয়ে এর কাছ থাকে ভালো কিছুই আশা করতে পারেন নতুন এবং পুরনো iOS এবং OSX ডেভেলপারেরা।

আমি এই প্ল্যাটফর্মে নতুন, আমার কি এখন অব্জেক্টিভ-সি অথবা সুইফ্ট নাকি দুটো ল্যাঙ্গুয়েজ-ই শেখা উচিত?
প্রথমত, সুইফ্ট (Swift) একটি নতুন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, আর তাই এটাতে আরও নতুন নতুন ফিচার যুক্ত হওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাগ ফিক্সিং চলতেই থাকবে সামনের অন্তত এক দুই বছর। আর তাই Apple এটার ব্যাপারে প্রচার চালিয়ে যাবে ঠিকই কিন্তু আপনাকে বাধ্য করবে না iOS এর অ্যাপ শুধুমাত্র Swift এ করার জন্য। আর অন্যদিকে অবজেক্টিভ-সি রাতারাতি বন্ধও হয়ে যাবে না।
দ্বিতীয়ত, ইতোমধ্যে Apple অ্যাপ স্টোরে ১০ লাখেরও বেশি অ্যাপ্লিকেশন আছে যেগুলো অবজেক্টভ-সি তে করা এবং ওয়েবে কয়েক লাখ জনপ্রিয় লাইব্রেরি, ফ্রেমওয়ার্ক ওপেন সোর্স টুলস ও প্রজেক্ট আছে যেগুলোও অবজেক্টিভ-সি তে ডেভেলপ করা। আর তাই এগুলোর এনহ্যান্সমেন্ট, বাগ ফিক্সিং এবং আপগ্রেড চলবে আরও অনেক দিন আর তার জন্য অবশ্যই অব্জেক্টিভ-সি তে অভিজ্ঞ ডেভেলপার বা প্রোগ্রামারের প্রয়োজন থাকছেই।
তৃতীয়ত, Swift এবং iOS 7,8 সাথে Xcode 6 এমন ভাবে প্রস্তুত আছে যে আপনি একটি প্রোজেক্টে একি সাথে অবজেক্টিভ-সি এবং সুইফ্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করতে পারেন কোন রকম বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই। আর এই যুগপৎ বিদ্যমানতা এটাই প্রমাণ করে যে, সুইফ্ট একবারেই অবজেক্টিভ-সি এর জায়গা দখল করে নিচ্ছে না। আরও দেখতে পারেন এখানে

আর তাই, যদি আপনি কোন iOS ডেভেলপার কোম্পানিতে জয়েন করতে চান অথবা নিজে থেকেই এই মার্কেটে অ্যাপ লঞ্চ করতে চান আপনাকে দুটো ল্যাঙ্গুয়েজেই সম্যক ধারনা নেয়া খুবি গুরুত্বপূর্ণ।

আমি বেশকিছু দিন ধরেই অবজেক্টিভ-সি তে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এর কাজ করে আসছি কিন্তু এখন কি আমি একজন কেবলই নতুন শিক্ষানবিস?
একদম না। চিন্তা করে দেখুন, আপনি ইতোমধ্যে Xcode, Cocoa এবং Cocoa Touch এর বিভিন্ন API এবং অবজেক্টিভ-সি তে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন যার মাধ্যমে চলছে কয়েক লাখ অ্যাপ – তার তুলনায় Swift শেখা কিছুই না। বরং আপনি আপনার অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারে নতুন একটি জিনিষ যুক্ত করতে যাচ্ছেন মাত্র। অন্যদের থেকে তার মানে আপনি সিংহ ভাগ এগিয়ে থাকছেনই সব সময়।

সুইফ্ট দিয়ে ডেভেলপমেন্টের সুবিধা কি?
Apple এর মতে এটা ৩০ বছর বয়সী Objectiv-C এর চেয়ে অনেকটাই আধুনিক। আর তাই এতে প্রোগ্রামারদের অনেক প্রিয় কিছু ফিচার যেমন namespacing, optionals, tuples, generics, type inference ইত্যাদি থাকছে যা অবশ্যই সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টকে আরও বেশি যুগোপযোগী আর গুনমান সম্পন্ন করবে।
অন্যদিকে এই ল্যাঙ্গুয়েজের অবজেক্ট সর্টিং, এক্সিকিউশন সহ আরও কিছু বিষয়ে টাইম কমপ্লেক্সিটি অনেক কম।

কোথায় শেখা শুরু করবো?
সবসময় নতুন কিছু শুরু করতে বা ওই বিষয়ে জানতে সেটার অফিসিয়াল সোর্স থেকেই দেখে নেয়া উচিত। যেমন নিচের সোর্স দুটি হতে পারে সঠিক দিক নির্দেশনাঃ

আর আমরা তো আছিই। আমাদের এই সিরিজের এবং সম্ভাব্য বইয়ের দ্বিতীয় সেকশনেই থাকছে বাংলায় ব্যাসিক সুইফ্ট লার্নিং এর উপর ১০টির বেশি চ্যাপ্টার। সিরিজের সব পোষ্ট গুলোর এবং প্রিন্টেড বইয়ের আপডেট পেতে লাইক দিয়ে রাখুন আমাদের ফেসবুকে ফ্যান পেজে

আমাদের ব্লগ পোস্ট গুলোর চেয়ে অনেক বেশি বিস্তারিত আলোচনা, বিশ্লেষণ এবং কোড এক্সাম্পল থাকবে প্রিন্টেড বইয়ে।

পরের চ্যাপ্টারঃ পরের চ্যাপ্টারে থাকবে একটি সাধারণ প্রশ্ন যেটা অনেকেরই মনে জমে থাকে, “iOS এবং OSX এর অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের জন্য Macbook, iMac, Mac mini অর্থাৎ Apple গ্যাজেট বাধ্যতামূলক কিনা” এর উপর আলোচনা এবং কিছু বিশ্লেষণ ও অবশ্যই কিছু বিকল্প ব্যবস্থার কথা।

৯- অবজেক্টিভ-সি (Objective-C) তে ব্লক (Block) এর ব্যবহার

Standard

আগের চ্যাপ্টারঃ অবজেক্টিভ-সি এর ক্যাটাগরি (CATEGORY) এবং এর বিস্তারিত

ভূমিকাঃ
সহজভাবে বলতে গেলে ব্লক হচ্ছে অবজেক্টিভ-সি এর anonymous function. Google ডেফিনেশন অনুযায়ী অ্যানোনিমাস ফাংশন হচ্ছে-
An anonymous function is a function that is not stored in a program file, but is associated with a variable whose data type is function_handle. Anonymous functions can accept inputs and return outputs, just as standard functions do. However, they can contain only a single executable statement.
এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন অবজেক্টের মধ্যে ইচ্ছামত স্টেটমেন্ট (Satement) পাস তথা আদান-প্রদান করতে পারবেন যেমনভাবে সাধারণ ডাটা আদান প্রদান করে থাকেন। উপরন্তু ব্লককে ক্লোজার (Closure) হিসেবে ব্যবহার করা হয় যাতে করে তার পক্ষে তার আসে পাশের ডাটা/অবস্থা নিয়ে কাজ করাও সম্ভব হয়।
আস্তে আস্তে আমরা এ ব্যপারে বিস্তারিত জানতে চেষ্টা করব।

সিনট্যাক্সঃ
ডিক্লেয়ারেশন-

returntype (^blockName) (argumentType);

ইমপ্লিমেন্টেশন-

returntype (^blockName) (argumentType) = ^{
    // Statements
};

এখানে “=” চিহ্নের বাম পাশের অংশটি হচ্ছে একটি ব্লক ভেরিয়েবল এবং ডান পাশের অংশ হচ্ছে ব্লকটি।

উদাহরণ-

void (^simpleBlock) (void) = ^{
    NSLog(@"This is a block that does not return anything and also has no argument!");
};

উপরের এই ব্লককে আমরা simpleBlock(); এভাবে কল করতে পারি।

ব্লক (Block) তৈরিঃ
ব্লক তৈরির ব্যাপারটা মোটা মুটি ফাংশন তৈরির মতই। যেভাবে আপনি একটি ফাংশন ডিক্লেয়ার করে থাকেন ঠিক সেভাবেই একটি ব্লক ভেরিয়েবল ডিক্লেয়ার করতে পারেন আবার যেভাবে একটি ফাংশন এর ইমপ্লিমেন্ট করেন সেভাবে একটি ব্লককে ডিফাইন করতে পারেন। এমনকি যেভাবে একটি ফাংশনকে কল করেন ঠিক সেভাবেই একটি ব্লককেও কল করতে পারেন।
নিচে একটি সহজ উদাহরণ দেখানো হল,

// main.m

#import <Foundation/Foundation.h>

int main(int argc, const char * argv[])
{

    @autoreleasepool {
        // Declare and define the isPlaceOpen block
        BOOL (^isPlaceOpen)(void) = ^ {
            return YES;
        };

        // Use the block
        NSLog(@"Open state of the place is: %hhd ", isPlaceOpen());
    }
    return 0;
}

“^” চিহ্নটি ব্যবহার করে isPlaceOpen কে একটি ব্লক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এটাকে অবজেক্টিভ-সি এর “*” পয়েন্টার চিহ্নের মতই মনে করতে পারেন অর্থাৎ শুধুমাত্র ডিক্লেয়ার করার সময় এটা গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু এর পরে এটাকে সাধারণ ভেরিয়েবলের মতই মনে করে ব্যবহার করতে পারেন।
নিচে আরেকটি উদাহরণ দেখি যেখানে আমাদের ব্লকটি দুইটি double টাইপের প্যারামিটারও গ্রহণ করে এবং সেগুলো ব্যবহার করে অল্প কিছু হিসাব করার পর একটি double টাইপ ডাটা রিটার্ন করে।

// main.m

#import <Foundation/Foundation.h>

int main(int argc, const char * argv[])
{

    @autoreleasepool {
        // Declare the block variable
        double (^priceAfterTax)(double rawPrice, double totalTax);

        // Create and assign the block to the variable
        priceAfterTax = ^(double price, double tax) {
            return price + tax;
        };

        // Call the block
        double total = priceAfterTax(400, 40);

        NSLog(@"Total price after considering tax is: " @"%.2f Tk.", total);
    }
    return 0;
}

খেয়াল করুন, প্রথমে আমরা একটি ব্লক ভেরিয়েবল ডিক্লেয়ার করেছি তারপর আসল ব্লকটিকে সেই ভেরিয়েবলে অ্যাসাইন করেছি এবং তারপর ভেরিয়েবলের নাম ধরে সেই ব্লককে ব্যবহার বা কল করেছি। প্রোগ্রামটি রান করালে নিচের মত আউটপুট আসবে।
Screen Shot 2014-06-11 at 1.20.13 PM

ক্লোজার (Closure)ঃ
শুরুতেই বলা হয়েছে যে, সাধারণভাবে একটি ব্লক, ক্লোজার হিসেবেও ইমপ্লিমেন্টেড হয়। যেমন নিচের উদাহরণটি দেখে আমরা বিশ্লেষণ করতে পারি এখানে ক্লোজার ফিচার কোথায়,

// main.m

#import <Foundation/Foundation.h>

int main(int argc, const char * argv[])
{

    @autoreleasepool {
        NSString *foodGenre = @"Italian";

        NSString *(^getFullItemName)(NSString *) = ^(NSString *itemName) {
            return [foodGenre stringByAppendingFormat:@" %@", itemName];
        };

        NSLog(@"%@", getFullItemName(@"Pizza"));    // Honda Accord
    }
    return 0;
}

আবারও বলি, ফাংশনের মতই একটি ব্লকের মধ্যে থেকে আপনি সেটার লোকাল ভেরিয়েবলগুলো, তার কাছে যে প্যারামিটারগুলো পাস করা হয়েছে সেগুলো এবং যেকোনো গ্লোবাল ভেরিয়েবল অ্যাক্সেস করতে পারবেন। কিন্তু ক্লোজার হিসেবে ব্লকের ব্যবহারের ফলে আপনি কিছু নন-লোকাল ভেরিয়েবলকেও ব্লকের মধ্যে থেকে অ্যাক্সেস করতে পারবেন। নন-লোকাল ভেরিয়েবল হচ্ছে ব্লকের বাইরের কোন ভেরিয়েবল কিন্তু ব্লকের Lexical Scope এর আওতাভুক্ত। উপরের উদাহরণে foodGenre সেরকম একটি নন-লোকাল ভেরিয়েবল যেটাকে getFullItemName ব্লকের মধ্যে থেকেও ব্যবহার করা গেছে।

মেথড প্যারামিটার হিসেবে ব্লক ব্যবহারঃ
একটি পূর্ণ ব্লককে যেকোনো মেথডের প্যারামিটার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। ওই ব্লক যে কাজটা করে মূলত সেই কাজটিকেই একটা প্যাকেজ সরূপ একটি প্যারামিটার হিসেবে যেকোনো মেথডের কাছে দেয়া যায়। নিচে সেরকম একটা উদাহরণ দেখবো আমরা।
প্রথমে আপনার প্রজেক্টকে এমনভাবে সাজিয়ে নিন যাতে সেখানে Food.h, Food.m এবং main.m এই ৩টি ফাইল থাকে নিচের মত করে,

// Food.h

#import <Foundation/Foundation.h>

@interface Food : NSObject

- (void)performActionWithCompletion: (void (^) ()) completionBlock;

- (void)calculatePriceWithTax: (double (^) (double price)) taxCalculatorBlock;

@end
// Food.m

#import "Food.h"

@implementation Food

- (void)performActionWithCompletion:(void (^) ()) completionBlock {

    NSLog(@"Started cooking...");
    completionBlock();
}

- (void)calculatePriceWithTax: (double (^) (double price)) taxCalculatorBlock {
    NSLog(@"Total price is: %f", taxCalculatorBlock(400));
}

@end
// main.m

#import <Foundation/Foundation.h>
#import "Food.h"

int main(int argc, const char * argv[])
{

    @autoreleasepool {
        Food *process = [[Food alloc]init];

        [process performActionWithCompletion: ^{
            NSLog(@"Cooking is finished and this block has been called to intimate action is performed.");
        }];

        [process calculatePriceWithTax: ^(double totalPrice) {
            return totalPrice + 40;
        }];

    }
    return 0;
}

উপরের কোড গুলো দেখুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন, প্রথমেই আমরা Food ক্লাসের ইন্টারফেসে দুইটি মেথড ডিক্লেয়ার করেছি যে দুটো মেথড প্যারামিটার হিসেবে দুই ধরনের দুইটি ব্লক গ্রহণ করে। প্রথম মেথডটির নাম performActionWithCompletion: এবং এটি এমন একটি ব্লককে প্যারামিটার হিসেবে গ্রহণ করে যে ব্লকটির কোন কিছু রিটার্ন করে না এবং যার কোন আর্গুমেন্টও নাই। কিন্তু দ্বিতীয় মেথডটি একটি ব্লককে তার প্যারামিটার হিসেবে গ্রহণ করে যে ব্লক একটি double টাইপ ডাটা রিটার্ন করে এবং যার একটি আর্গুমেন্টও আছে।
এখন এই দুইটি মেথড এর ইমপ্লিমেন্টেশন লিখেছি Food.m ফাইলে। অর্থাৎ এই দুইটি মেথড কি কাজ করবে তার ডেফিনেশন। প্রথম মেথডটি শুরুতেই একটি ম্যাসেজ প্রিন্ট করবে এবং তারপর ওর কাছে প্যারামিটার হিসেবে আসা ব্লকটিকে কল করবে। তো, এক্ষেত্রে কি ঘটবে? ওই completionBlock নামক ব্লকের মধ্যে যা করতে বলা হয়েছে তাই ঘটবে। অর্থাৎ ওখানে লিখে রাখা আরও একটি ম্যাসেজ প্রিন্ট হবে।
দ্বিতীয় মেথড এর কাজ হচ্ছে, তার কাছে আসা ব্লকটিকে কল করবে। কিন্তু যেহেতু ওই ব্লকটির প্যারামিটার আছে তাই ওকে কল করার সময় একটি ভ্যালুও পাস করে দিবে। আর ব্লক কল করা মানে কি? ওই ব্লকের মধ্যে যা করতে বলা হয়েছে তাই করবে। এক্ষেত্রে ওই ব্লকটি একটি ডাটা রিটার্ন করে এবং আসলে calculatePriceWithTax: মেথডটি সেই রিটার্ন করা ডাটাকেই নিজের মধ্যে থেকে প্রিন্ট করে।
main.m ফাইলে আমরা উপরে উল্লেখিত মেথড দুইটি কল করেছি এবং তাদের প্যারামিটার হিসেবে দুইটি ভিন্ন রকম ব্লক কে পাঠিয়ে দিয়েছি। প্রোগ্রামট রান করালে নিচের মত আউটপুট আসবে,
Screen Shot 2014-06-11 at 2.23.24 PM

ব্লক টাইপ ডিফাইন করাঃ
typedef এর মাধ্যমে একটি ব্লক টাইপ তৈরি করা যায় যাতে করে ব্লক ব্যবহারের সময় এর সিনট্যাক্স এলোমেলো না হয়ে যায় এবং ওই ব্লকটিকে আরও সহজ এবং সংক্ষেপ নামে ব্যবহার করা যায়। এ ব্যাপারে এবং উপরের টপিক গুলোর আরও বিস্তারিত থাকবে আমাদের সম্ভাব্য কাগুজে বইয়ে। বই এর আপডেট পেতে লাইক দিয়ে রাখতে পারেন এখানে

পরের চ্যাপ্টারঃ অবজেকটিভ সি তে এক্সেপশন ও এরর হ্যান্ডেলিং

৮- অবজেক্টিভ-সি এর ক্যাটাগরি (Category) এবং এর বিস্তারিত

Standard

আগের চ্যাপ্টারঃ অবজেক্টিভ সি (OBJECTIVE C) এর প্রোটোকল ও এর ব্যবহার

ভূমিকাঃ
সংক্ষেপে বলতে গেলে ক্যাটাগরি হচ্ছে একটি ক্লাসের ডেফিনেশনকে অনেক গুলো আলাদা আলাদা ফাইলে ভাগ করে নেয়া। অনেক বড় কোড বেজে কাজ করার সময় একটি ক্লাসের মডিউলারাইজেশন করাই এর উদ্দেশ্য। মডিউলারাইজেশন বলতে বোঝানো হচ্ছে যে, একটি বড় ক্লাসকে ছোট ছোট অনেক গুলো স্বাধীন অংশ হিসেবে তৈরি করার একটা প্যাটার্ন।

category
উপরের ছবিটিতে এটাই প্রকাশ করা হয়েছে যে, একাধিক ফাইল অর্থাৎ Cook.m এবং Cook+Costing.m মিলে Cook ক্লাসের পূর্ণাঙ্গ ইমপ্লিমেন্টেশন সম্পন্ন হয়েছে। নিচের উদাহরণের মাধ্যমে আমরা আরও পরিষ্কার ধারনা পাবো যেখানে, একটি ক্যাটাগরি ব্যবহার করে একটি বেজ ক্লাসকে এক্সটেন্ড করব অর্থাৎ বেজ ক্লাসের অ্যাসেট হিসেবে আরও কিছু মেথড যুক্ত করব কিন্তু বেজ ক্লাসটির সোর্স বা কোন কিছু পরিবর্তন না করেই।

উদাহরণ এর পটভূমি তৈরিঃ
কথামত, ক্যাটাগরির ব্যবহার বুঝতে হলে আমাদের এক সেট বেজ ক্লাস দরকার পরবে। আর তাই নিচের মত করে একটি ক্লিন প্রজেক্টে Cook ক্লাস তৈরি করে নিন যেটা এক্ষেত্রে আমাদের বেজ ক্লাস।

Cook.h

#import <Foundation/Foundation.h>

@interface Cook : NSObject

@property (copy) NSString *item;

- (void)placeOrder;
- (void)startCooking;

@end
Cook.m

#import "Cook.h"

@implementation Cook

-(void) placeOrder {
    NSLog(@"Order placed for a %@", self.item);
}

-(void) startCooking {
    NSLog(@"Started cooking %@", self.item);
}

@end

আশা করি উপরের সাধারণ ক্লাস ডেফিনেশনটা বুঝতে পেরেছেন। এভাবে আগে আমরা অনেক বারই ক্লাস তৈরি করেছি যেখানে একটি ইন্টারফেস ফাইল এবং একটি ইমপ্লিমেন্টেশন ফাইল মিলে একটি পূর্ণ ক্লাস ডেফিনেশন সম্পন্ন হয়। এখন মনে করুন যে, আপনি রান্না (Cook) সম্পর্কিত আরও কিছু মেথড যুক্ত করতে চাচ্ছেন কিন্তু Cook ক্লাস এর কোন কিছু পরিবর্তন না করে বা সেটার গঠন নষ্ট না করে। এই ক্ষেত্রে আপনি ওই নতুন মেথড গুলো একটি ক্যাটাগরিতে যুক্ত করতে পারেন। ধরুন, আমরা চাই Cooking সম্পর্কিত খরচ এর হিসাবের একটি নতুন মেথড যুক্ত করতে।

ক্যাটাগরি তৈরিঃ
ক্যাটাগরির ডেফিনিনেশন এবং ক্লাসের ডেফিনেশন মোটা মুটি একি রকম অর্থাৎ এরও ইন্টারফেস এবং ইমপ্লিমেন্টেশন মিলেই সম্পূর্ণতা হয়। আমাদের প্রজেক্টে নতুন Cook+Costing নামের ক্যাটাগরি যুক্ত করতে হলে Xcode এর New File অপশন থেকে নিচের মত করে এই ক্যাটাগরিটি তৈরি ও প্রজেক্টে যুক্ত করুন। ক্যাটাগরির নাম দিচ্ছি Costing এবং Category On হিসেবে লিখতে/সিলেক্ট করতে হবে Cook.
Screen Shot 2014-06-09 at 9.15.28 PM

Screen Shot 2014-06-09 at 9.15.59 PM

তাহলে আমাদের প্রজেক্টে ফাইল স্ট্রাকচার হবে নিচের মত,
Screen Shot 2014-06-09 at 9.16.19 PM

এখন একটু খেয়াল করলেই দেখবেন ক্যাটাগরির ইন্টারফেস ফাইল এবং সাধারণ ক্লাসের ইন্টারফেস ফাইল একি রকম দেখতে শুধু @interface এর পর ক্লাসের নাম এবং তারপর ব্রাকেটের মধ্যে ক্যাটাগরির নাম উল্লেখ করতে হয়। নিচে আমাদের Cook+Costing এর ইন্টারফেস,

Cook+Costing.h

#import "Cook.h"

@interface Cook (Costing)

- (BOOL)isFreeOfferOngoing;
- (void)calculatePrice;

@end

রানটাইমে এই মেথড দুটো Cook ক্লাসের অংশ হিসেবেই কাজ করে। যদিও এগুলো আলাদা একটা ফাইলে ডিফাইন করা হল তবুও এগুলোকে এমন ভাবে এক্সেস করা যাবে যেন মনে হবে এগুলো Cook ক্লাসের মেথড।
আর আগেই বলা হয়েছে ক্যাটাগরির ইমপ্লিমেন্টেশনও লাগবে (সাধারণ ক্লাসের মতই)। তাই নিচের মত করে Cook+Costing.m ফাইলটি পরিবর্তন করুন,

Cook+Costing.m

#import "Cook+Costing.h"

@implementation Cook (Costing)

-(BOOL) isFreeOfferOngoing {
    return NO;
}

-(void)calculatePrice {
    NSLog(@"Price of %@ would be 350 tk.", self.item);
}

@end

ব্যবহারঃ
যেকোনো ফাইল কোন একটি ক্যাটাগরির যেকোনো একটি API (ইন্টারফেস লেয়ার) ব্যবহার করতে চাইলে তাকে অবশ্যই ওই ক্যাটাগরির হেডার ফাইলে যুক্ত করে নিতে হবে। অর্থাৎ নিচের মত করে main.m ফাইলে প্রথমে আমাদেরকে Cook ক্লাসের হেডার এবং তারপরে Cook+Costing ক্যাটাগরির হেডার যুক্ত করতে নিতে হবে,

main.m

#import <Foundation/Foundation.h>
#import "Cook.h"
#import "Cook+Costing.h"

int main(int argc, const char * argv[])
{
    
    @autoreleasepool {
        Cook *forMe = [[Cook alloc] init];
        forMe.item = @"Italian Pizza";
        
        // "Standard" functionality from Cook.h
        [forMe placeOrder];
        [forMe startCooking];
        
        // Additional methods from Cook+Costing.h
        if (![forMe isFreeOfferOngoing]) {
            [forMe calculatePrice];
        }
        
    }
    return 0;
}

উপরে খেয়াল করুন, খুব সুন্দর ভাবে Cook ক্লাসের ফাংশনালিটি গুলো আমরা এক্সেস করতে পারছি এবং সাথে ওই ক্লাসের অবজেক্ট বা ইন্সট্যান্স দিয়েই কিন্তু Costing ক্যাটাগরির মাধ্যমে Cooking এর জন্য অতিরিক্ত প্রয়োজনীয় মেথড যেগুলো নতুন ক্যাটগরি হিসেবে ডিফাইন করা হয়েছে সেগুলোও এক্সেস করতে পারছি ১৯-২১ নাম্বার লাইনে। প্রোজেক্টটি রান করালে নিচের মত আউটপুট আসবে।

Screen Shot 2014-06-09 at 9.51.49 PM

প্রোটেক্টেড মেথড হিসেবে ক্যাটাগরিঃ
আশা করি এই বিষয়ে আমাদের সম্ভাব্য কাগুজে বইয়ে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে।

এক্সটেনশনঃ
আশা করি এই বিষয়ে আমাদের সম্ভাব্য কাগুজে বইয়ে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে।

পরের চ্যাপ্টারঃ
পরের চ্যাপ্টারে থাকবে অব্জেক্টিভ-সি এর ব্লক (Block) এবং সেটার ব্যবহার ও সুবিধাগত আলোচনা। তারপরেই থাকবে অবজেক্টিভ-সি তে এক্সেপশন ও এরর হ্যান্ডেলিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। আর উক্ত চ্যাপ্টারের মাধ্যমেই ব্যাসিক অবজেক্টিভ-সি লার্নিং সেকশন শেষ হয়ে পরবর্তী রিয়াল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট সেকশন শুরু হবে ১০ চ্যাপ্টার সম্বলিত।

আপডেট পেতে লাইক করুন এখানে অথবা এই ব্লগে সাবস্ক্রাইব করতে পারেন।